Home / Health / রাজশাহীতে কনডম ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে

রাজশাহীতে কনডম ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর সবক’টি উপজেলায় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি নারী-পুরুষের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। গর্ভনিরোধের স্থায়ী পদ্ধতির মধ্যে ভ্যাসেকটমি (পুরুষের ক্ষেত্রে উভয় দিকের শুক্রনালির অংশকে কেটে বেঁধে দেওয়া) হয়েছে ২ হাজার ৮৯০ জন পুরুষের এবং টিউবেকটমি (নারীদের উভয় দিকের ফেলোপিয়ান নালী কেটে বেঁধে দেওয়া) হয়েছে ২ হাজার ৭৫৩ জন নারীর। জেলায় মোট এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হাজার ২৬১ জন। যার মধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৪৩ নারী-পুরুষের। যার শতকরা হার ৫৪ দশমিক ৯৯ ভাগ।

জন্মনিরোধের যান্ত্রিক পদ্ধতির সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি কনডম। রাজশাহীতে এক বছরে এ কনডম ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে ৩৫ হাজারেরও বেশি। জেলার সবক’টি উপজেলায় কনডম ব্যবহারের মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪১ হাজার ৮২৪টি; যা বছর শেষে ৭৭ হাজার ৩০৩ টিতে দাঁড়ায়। শতকরা হিসাবে যার পরিমাণ ১৮৪ দশমিক ৮ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার সংখ্যা অনুযায়ী প্রতি একজন মানুষ দুইটি কনডম ব্যবহার করে। মা ও শিশুর স্বাস্থের গুরুত্ব এবং দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাজশাহীর সবক’টি উপজেলা তার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে বলে দাবি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপজেলাভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদী এবং অস্থায়ী পদ্ধতির লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক অগ্রগতির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গর্ভনিরোধে নারীদের দীর্ঘমেয়াদী পদ্ধতি আইইউডি (এক ধরনের লুপ বা ফাঁস যা নিষিক্ত ডিম্বানু জরায়ুর অভ্যন্তরে প্রবেশে বাধা প্রদান করে) করা হয়েছে ২ হাজার ৯৫২ জন নারীর; যার শতকরা হার ৪২ দশমিক ২৩ ভাগ। এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৯৯১ জন নারীর। ইমপ্লান্ট করা হয়েছে প্রায় তিনগুন। এর সংখ্যা ৭ হাজার ৭০৯ জন নারীর এবং এর শতকরা হার দাঁড়ায় ৭৭ দশমিক ০৯ ভাগ । সেই সাথে এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হাজার। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, শতকরা মাত্র ৫ জনের সমস্যা দেখা দিলে ইমপ্লান্ট পদ্ধতি থেকে সরে আসতে পরামর্শ দেন তারা।

গর্ভনিরোধের অস্থায়ী পদ্ধতির মধ্যে শারীরিক, রাসায়নিক, যান্ত্রিক, শারীরবৃত্তীয়, গর্ভপাত অন্যতম। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী শারীরবৃত্তীয় পদ্ধতির মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি (খাবার বড়ি) ও ইনজেকশন গ্রহণ করেন বেশিরভাগ নারী। জেলায় ইনজেকশন প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৫২১টি। এর মধ্যে দেয়া হয়েছে ৯৪ হাজার ৬১৭টি। যার শতকরা হার ৮৩ দশমিক ৩ ভাগ। বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. নাসিম আখতার বলেন, সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এটি সর্বনিন্ম ৭২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৮২ থেকে ৮৩ শতাংশে রাখতে বলা হয়েছে। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী ৮৫ শতাংশ অতিক্রম করা যাবে না। যদি এ শতাংশ অতিক্রম করে তাহলে জিরো পপুলেশন গ্রোথ হয়ে যাবে। যা ভবিষ্যৎ হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। আমরা এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।

গ্রামীণ এবং শহুরে মহিলাদের মধ্যে সমানভাবে গর্ভনিরোধে সর্বাধিক ব্যবহার হয়ে আসছে খাবার বড়ি। যার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৩৩ হাজার ১৬ জনের মাঝে বিতরণের এবং ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৮১ জন নারী এটি গ্রহণ করেছে । প্রতি ১০০ জন নারীর মধ্যে খাবার বড়ি গ্রহণ করে ৮৩ জন নারী। সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা ছিল বোয়ালিয়া থানায়। এখানে ৩৯ হাজার ৬০১ জনে অর্জন সম্ভব হয়েছে ৩২ হাজার ৯৫২ জনকে; যা শতকরা ৮৩ দশমিক ০২ শতাংশ। অপরদিকে সর্বনিন্ম লক্ষ্যমাত্রা ছিল বাঘা থানায়। লক্ষ্যমাত্রার ১৬ হাজার ১২৭ জনে অর্জন হয়েছে ১৩ হাজার ১৬৯ জন।

তথ্যমতে, রাজশাহীতে নারী-পুরুষের বন্ধ্যাত্বকরণের হার বিগত বছর থেকে কমেছে প্রায় দেড় হাজার। কনডমের ব্যবহার ১৮৪ দশমিক ৮ থেকে বেড়ে ১৯৪ দশমিক ৪ এবং খাবার বড়ির ব্যবহার ৮১ দশমিক ০৮ থেকে ৯২ দশমিক ০১ এ উন্নীত হয়েছে.। তবে, এ বিষয়ে লক্ষ্যমাত্রার ওপর কোনরকম প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন না পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। খাবার বড়ি গ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি এবং কনডম ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়াকে আশার দিক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

About admin

Check Also

Problems with sinusitis.10 domestic ways to deal with !!

Problems with sinusitis are many of us. Many people suffer from pain. However, many people …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *