Home / Uncategorized / ৪ মাসের অবোধ শিশুকে হত্যা করে ডোবার কাঁদায় পুতে রাখা ঘাতক সেই মায়ের ভয়ানক স্বীকারোক্তি !

৪ মাসের অবোধ শিশুকে হত্যা করে ডোবার কাঁদায় পুতে রাখা ঘাতক সেই মায়ের ভয়ানক স্বীকারোক্তি !

ঘাতক এই মা কোন ‘মানসিক প্রতিবন্ধী বা পাগল নয়’ ! পারিবারিক কলহের জের ধরে নিজের স্বামী আর শাশুড়িকে ‘উচিতও শিক্ষা’ দেবার জন্যই শুধুমাত্র ‘ভয়ানক বদরাগী’ এই নারী নৃশংস কায়দায় খুন করেছে মাত্র চার মাস বয়সের অবোধ শিশু তার নিজেরই গর্ভজাত সন্তানকে’ !!‘ওসি আদিতমারি ‘
জেলার আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি কলতারপাড় গ্রামে জেহাদী হোসেন নামে ৪ মাসের এক সন্তানকে গলাটিপে হত্যা করেছে তারই গর্ভধারিনী ‘মা’! শুধু তাই নয় শিশুটিকে নির্মম কায়দায় হত্যার পর শিশুটির লাশ বাড়ির পাশের একটি ডোবার কাঁদায় লুকিয়ে রাখে এই ঘাতক মা ।
বুধবার সকাল ৭ টার দিকে এই হত্যার ঘটনা ঘটার পর দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়রা ওই শিশুর লাশ উদ্ধার করে। নির্মমতার শিকার শিশুটি কলতারপাড় গ্রামের আবু হাসান ইনছেনা বেগম দম্পতির একমাত্র শিশু সন্তান ছিল।

এদিকে, এমন নৃশংস ঘটনার পর হত্যাকারী মা ইনছেনা বেগমকে ”মানসিক প্রতিবন্ধি” দাবী করে মামলাকে অন্যখাতে ঘুরিয়ে নেবার চেষ্টা করেন ইনছেনা বেগমের পরিবারের লোকজন।এ ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়েই ছড়িয়ে পড়েছে চাঞ্চল্য। বুধবার সারাদিন নির্মমতার শিকার শিশুটির লাশ দেখতে আশেপাশের এলাকা থেক ছুটে আসে হাজারো নারী-পুরুষ। সবাই বলছে, একজন মা ”পাগল’ হলেও সন্তানকে এমন নৃশংস কায়দায় হত্যা করতে পারেনা’। প্রতিবেশীদের দেয়া বিচ্ছিন্ন বক্তব্যেও জানা যাচ্ছে, এই হত্যার পেছনে থাকতে পারে পারিবারিক কলহ অথবা অন্য কোন বিষয়।এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শিশুটির বাবা ভুমিহীন আবু হাসান ঢাকায় রিক্সা চালায়। তার একমাত্র সন্তান জেহাদী ও তার বৃদ্ধা মা’কে নিয়ে ওই বাড়িতে থাকত স্ত্রী ইনছেনা বেগম(২৩)। বুধবার সকালে জেহাদী কান্না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ইনছেনা তার সন্তানকে মুখে কাপড় ভরায়ে হত্যা করে বাড়ির পাশের (নির্জন স্থানে) একটি নালায় পুঁতে রাখে।

প্রতিবেশিরা জানিয়েছেন, এরপর ইনছেনা বেগম সন্তানের খোঁজে ‘চিৎকার করে কান্না করে’ । পরে স্থানীয়রা খোঁজা-খুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির পার্শ্বের নালায় পুঁতে রাখা শিশুটির পা দুইটি দেখতে পায়।কিন্তু মা ইনছেনা বেগমের আচরনে সন্দেহ হলে তাকে বাড়িতে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয় গ্রামবাসীরা। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাকে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় শিশুটির মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ জানিয়েছিলো , বুধবার দুপুরে উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি কলতারপাড় এলাকায় নিজ বাড়ির পাশের ডোবার কাঁদা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রতিবেশীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিশু জেহাদী হোসেনের পিতা আবু হাসান ঢাকায় রিক্সা চালান। তাদের সংসারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ চলে আসছিলো তার জের ধরেই এই নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
নেপথ্যে যে ঘটনা ! ( বৃহস্পতিবারের আপডেট) আলোচিত এই নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনার আপডেট জানতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় সময়ের কণ্ঠস্বরের নিউজ রুম থেকে টেলিফোন করে যোগাযোগ করা হয় আদিতমারি থানার পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) ফিরজ কবিরের সাথে।ওসি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের বরাত দিয়ে সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানালেন, ‘ ঘাতক এই মা কোনভাবেই ‘মানসিক প্রতিবন্ধী নয়! বরং ভয়ানক বদরাগী একজন নারী ‘ । নির্মম এই হত্যাকান্ডের ঘটনা তিনি ঘটিয়েছেন পরিকল্পিত ভাবেই।’

ঘাতক মা ইনছেনা বেগমকে ‘পাগল’ নয় বরং ভয়ানক ‘বদরাগী’ উল্লেখ করে আসামীর কাছ থেকে পাওয়া জবানবন্দীর বরাত দিয়ে ওসি আরও জানান, অভাবের সংসারে ঢাকায় থাকা রিক্সাওয়ালা স্বামীর সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই কলহ লেগে থাকতো। বাড়িতে থাকা শাশুড়ির গায়েও একাধিকবার হাত তুলেছেন ইনছেনা বেগম। স্বীকারোক্তিতে ইনছেনা বেগম নামের এই ঘাতক মা জানিয়েছেন, স্বামী ও শাশুড়িকে ‘উচিৎ শিক্ষা’ দিতেই তিনি রাগের মাথায় এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছেন। বর্তমানে এমন নির্মম হত্যাকান্ডের জন্য তিনি অনুতপ্ত বলেও জানান ওসি ।মামলার অগ্রগতি নিয়ে ওসি জানালেন, বৃহস্পতিবার সকালেই ঢাকা থেকে হত্যার শিকার শিশুটির বাবা আবু হাসান আদিতমারিতে ফিরে এসেছেন। এরপর থানায় এসে স্ত্রীর বিরুদ্ধে একতি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার আদালতে তোলার পর ঘাতক মা’কে জেল হাজতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

এর আগে আদিতমারী থানার পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) ফিরজ কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বুধবার সন্ধায়্য সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানিয়েছিলেন, ‘বুধবার দুপুরে উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি কলতারপাড় এলাকার বাসিন্দা আবু হাসানের বাড়ির পাশের একটি ডোবার কাঁদায় শিশু জেহাদীর মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে তৎক্ষনাত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এছাড়া শিশুটির মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে আসা হয়েছে ‘ ।ওসি আরও জানিয়েছিলেন , মানসিক প্রতিবন্ধী ইনছেনা বেগম তার ছেলে জেহাদীকে হত্যা করে ডোবার কাঁদায় পুতে রেখেছে বলে অভিযোগ তুলছে স্থানীয়রা। জিজ্ঞাসাবাদের পরেই বোঝা যাবে আসলে তার মা দোষী নাকি এর পিছনে আর কোনো ঘটনা রয়েছে ।
বুধবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৬

About admin

Check Also

সহবাসে’র শুটিং শুরু তাদের!

ছেলেটি কলকাতার কর্পোরেট সেক্টরে কাজ করে। আর মেয়েটি ক্রিয়েটিভ অ্যাড এজেন্সির সঙ্গে জড়িত। ছবিটির গল্প …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *